ডিজিটাল স্মার্টফোনের যুগে মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু নোটিফিকেশন বন্ধ করে বা সাইলেন্ট মোড চালু করে সবসময় কাজের পরিবেশ তৈরি করা যায় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে এসেছে অ্যাপলের আইওএস ফোকাস ফিল্টার (Focus Filters)। এটি সাধারণ নোটিফিকেশন ব্লকের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনার আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপ আপনার বর্তমান মোড বা কাজের ধরন অনুযায়ী নিজেদের ভেতরকার চেহারা ও আচরণ পরিবর্তন করে নেয়। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব কীভাবে এই চমৎকার ফিচারটি আপনার দৈনন্দিন আইফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে।
অ্যাপলের পুরোনো ফোকাস মোড মূলত অ্যাপ থেকে আসা নোটিফিকেশন সীমাবদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আইওএস ফোকাস ফিল্টার এক ধাপ এগিয়ে অ্যাপের ভেতরের কন্টেন্ট ফিল্টার করতে পারে। এর মানে হলো, আপনি যখন 'ওয়ার্ক ফোকাস' অন করবেন, তখন আপনার ইমেইল অ্যাপটি কেবল কাজের ইমেইলই দেখাবে, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের বিষয়গুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে লুকিয়ে রাখবে।
ফোকাস ফিল্টার কেবল নোটিফিকেশন থামায় না, এটি অ্যাপের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল কোলাহল দূর করে।
কাজের সময় পার্সোনাল ইমেইল বা অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ আসার চেয়ে বড় মনোযোগ ভঙ্গের কারণ আর কিছু হতে পারে না। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি মেল অ্যাপ সিলেক্ট করে নির্দিষ্ট কিছু মেলবক্স বুকমার্ক করে রাখতে পারেন।
আমাদের ব্রাউজারে প্রতিনিয়ত শত শত ট্যাব খোলা থাকে। কাজেরTabs এবং আনন্দেরTabs একসাথে থাকলে কাজের মনোযোগ নষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনার আইওএস ফোকাস ফিল্টার সাফারি ব্রাউজারের ট্যাব গ্রুপকে ফোকাস মোডের সাথে লিঙ্ক করার সুবিধা দেয়। এর ফলে 'ওয়ার্ক মোড' চালু থাকলে শুধু কাজের সাথে সম্পর্কিত রিসার্চ ও ওয়েবসাইট ট্যাবগুলোই দেখা যাবে, বাকিগুলো অনায়াসে থাকবে আড়ালে।
শুধু অ্যাপের কন্টেন্ট নয়, সিস্টেমের নানা মোড পরিবর্তন করতেও এই চমৎকার ফিচার সাহায্য করে। যেমন, আপনি চাইলে 'রিডিং মোড' চালু করার সাথে সাথেই অটোমেটিক 'ডার্ক মোড' চালু হয়ে যেতে পারে বা নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্ষেত্রে স্ক্রিন রেফ্রেশ রেট পরিবর্তন হতে পারে।
আপনার আইফোনে কি আইওএস ফোকাস ফিল্টার ব্যবহার করা শুরু করেছেন? আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন কমেন্টে জানান!









